বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,৬৩২,৭৯৪
সুস্থ
১,৫৫৩,৭৯৫
মৃত্যু
২৮,১৬৪
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
৮,৪০৭
সুস্থ
৪৭৫
মৃত্যু
১০
স্পন্সর: একতা হোস্ট

রোহিঙ্গাদের অভয়াশ্রম দারুল আমান একাডেমী : পরিচালক থেকে শিক্ষার্থী বেশির ভাগই রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২

কক্সবাজার শহরে রোহিঙ্গাদের অভয়াশ্রম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে দারুল আমান একাডেমী। শহরের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী এলাকায় প্রতিষ্টিত এই মাদ্রাসাটি ইতি মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য সব চেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিনত হয়েছে। পরিচালক থেকে শুরু করে শিক্ষক এমনকি বাবুর্চী সহ সবাই রোহিঙ্গা। তাই এখানে নিরাপদে লেখাপড়া করছে অসংখ্য রোহিঙ্গার ছেলেমেয়ে। পরবর্তীতে তারা সেখান থেকে খুব সহজে এবতেদায়ী এবং জেডিসি পরীক্ষা দিয়ে পেয়ে যাচ্ছে সরকারি সনদ। ফলে সে সব রোহিঙ্গার ছেলেমেয়েরা আর বাংলাদেশী নাগরিক হতে বাধা হয়না। এছাড়া এই মাদ্রাসায় সাম্প্রতীক সময়ে বেশ কিছু উন্নয়ন করেছে রোহিঙ্গা ভিত্তিক সংগঠন। ফলে এখানে নিয়মিত রোহিঙ্গা ভিত্তিক অনেক জঙ্গি সংঠনের নেতারা এসে বৈঠক করা সহ সরকার বিরুধী কর্মকান্ডেও অংশ নেয় বলে জানান স্থানীয়রা। তাই দ্রæত দেশের নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের সার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কক্সবাজার পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবী এবং অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে যাচাই করে দেখা যায়,এই এলাকায় অবস্থিত দারুল আমান নামের প্রতিষ্টানটি রোহিঙ্গাদের অভয়াশ্রম হিসাবে প্রতিষ্টিত হয়েছে। জানা গেছে, সম্পূর্ন সরকারি খাস জমিতে ২০০৭ সালে প্রতিষ্টিত দারুল আমান একাডেমী প্রথমে একটি মকতব এবং মসজিদ দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রতিষ্টান বিশাল এক প্রতিষ্টানে পরিনত হয়েছে। একের পর এক সরকারি জমি দখল করে গড়ে উঠা এই প্রতিষ্টান এখন অনেকটা কাজ করছে দেশের বিরুদ্ধে। জানা গেছে,দারুল আমান একাডেমীর পরিচালক প্রশাসন মোঃ হাসেম একজন স্বীকৃত রোহিঙ্গা, কক্সবাজারের অন্যতম আলোচিত এবং রোহিঙ্গা জঙ্গি হিসাবে পরিচিত ছালাউলের অন্যতম প্রধান সহযোগি ছিলেন এই হাসেম,তারা মামলার আসামী ছিল। ১০/১২ বছর আগে যখন ছালাউল সহ অনেক রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল তখন হাসেম পালিয়ে ছিল পরে এসে এখানে যোগদান করেছে। বর্তমানে সার্বক্ষনিক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রæপের সাথে যোগাযোগ রয়েছে তার। মূলত ২০১৭ সালে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা আসার পরে হাসেমের হাত দিয়েই দারুল আমানে বড় বড় ভবন সহ উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসায় তার কথা মত সব কিছু হয়,সে যা বলে বাকিরা তা মেনে নেয়। এখানে নামে একটি পরিচালনা কমিটি থাকলেও তারা সবাই টাকার পাগল কেউ মুখ খুলেনা। এদিকে জানা গেছে,মোঃ হাসেম ছাড়াও দারুল আমানের ইমাম হিসাবে কর্মরত মোঃ নাছির একজন প্রকৃত বার্মার নাগরিক,তবে তারা এসেছে অনেক আগে। বর্তমানে মৌলবী নাছির বিয়ে করে এলাকাতেই থাকে। এছাড়া নাছিরের আত্বীয় মোয়াজ্জিন হিসাবে কর্মরত মকসুদুর রহমান এবং বাবুর্চী মোঃ আমিন এরাই প্রকৃত রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা এখন সম্পূর্ন বাংলাদেশি হিসাবে এখানে বিয়েশাদী করে সংসার করছে, এভাবেই আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বংশ বিস্তার ঘটছে। এ ব্যপারে দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীর বাসিন্দা আবদুস সালাম,মুজিবুর রহমান,আলাউদ্দিন সহ অনেকে বলেন,দারুল আমানে রোহিঙ্গা দ্বারা পরিচালিত হয় এটা সবাই জানে। মুলত এখানে ছাত্রছাত্রী ভর্তি হওয়ার সময় যে কাগজ পত্র নেওয়া হয়,তা সরকারি নির্দেশনা মত নয়। তারা যে কোন মতে হাতে লেখা বা পুরাতন একটি জন্ম নিবন্ধন (যা অনেকে কম্পিউটার দোকান থেকে করে আনে) ভুয়া এনআইডি দিলে ভর্তি করায়। এছাড়া বেশির ভাগ রোহিঙ্গা ছাত্র ভর্তি হয় হেফজ বিভাগে। মূলত যত বেশি ছাত্র তত বেশি তারা অনুদান পায়। এখানে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা অনুদান দেয়। তবে তারা কারা সেটা এলাকার মানুষ জানেনা বিশেষ করে রোহিঙ্গা নেতা হাসেম সব ব্যবস্থা করে। অল্প দিনেই হাসেম শহরের ডিককুল এলাকা বিশাল বাড়ি করেছে তার অনেক ব্যবসাও আছে। এছাড়া এখানে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে রোহিঙ্গা আছে যা তাদের পছন্দমত নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবী,আমাদের আশপাশে সাহিত্যিকা পল্লী,পল্লাইন্যকাটা,সিকদারপাড়া,বাসটার্মিনাল,মহুরী পাড়া এলাকায় অনেক পুরাতন রোহিঙ্গা স্থায়ী হয়ে গেছে,তারা এখানে বিয়ে করে জমি কিনে বাড়ি করে বড় প্রভাবশালী বনে গেছে তাদের ছেলেমেয়েরা এখানে বেশি পড়ে,আবার তারা জিম্মা নিয়ে অনেক রোহিঙ্গার ছেলেমেয়েকে ভর্তি করায়। পরে মাদ্রাসা বিভাগ থেকে এবতেদায়ী ৫ম শ্রেণী এবং জেডিসি ৮ম শ্রেণীর পরীক্ষা দিয়ে পাস করে সরকারি সনদ পেয়ে যায়। ফলে সহজেই পুরাতন রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশী বনে যায়,জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়ে যায়। আমাদের দেখা মতে অনেক রোহিঙ্গার ছেলেমেয়ে আছে যাদের মা বাবার জাতীয় পরিচয় পত্র নেই কিন্তু ছেলেমেয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র পেয়েছে। আবুল কালাম,ফরিদুল আলম নামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,দারুল আমান থেকে আগে পড়ে গেছে এমন অনেক রোহিঙ্গা ছেলেমেয়ে বর্তমানে শহর এলাকা তার পার্শবর্তি এলাকায় প্রতিষ্টিত হয়ে গেছে,তার মধ্যে আবদুল্লাহ বর্তমানে খুরুশকুলে বিশাল বাড়ি করেছে,করে ইয়াবা ব্যবসা,সাইফুল পাহাড়তলীতে থাকে মানবপাচার সহ অনেক অপরাধে জড়িত এরক অনেক আছে।
এ ব্যপারে দারুল আমান একাডেমীর পরিচালক প্রশাসন মোঃ হাসেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোন সদোত্তর দিতে পারেনি। অন্যদিকে দারুল আমান পরিচালনা কমিটির শিক্ষা পরিচালক নুরুল আবছার জানান,আমরাও চাইনা কোন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে স্থান পাক,হাসেমকে আমরা কয়েক বছর আগে নিয়োগ দিয়েছি। সে মূলত বিভিন্ন সংস্থা থেকে ভবন সহ টাকা পয়সা এনে দিয়েছে এটা সত্য। তবে তার এনআইডি সিকাকুন্ড বা অন্য কোথাও হওয়াতে আমাদেরও একটু সন্দেহ হয়েছিল। আর মৌলবী নাছির কে আমরা যখন থেকে প্রতিষ্টান করছি তার আগে থেকে তিনি সেখানে ইমাম হিসাবে ছিলেন। তবে তিনি দাবী করে বলেন,কোন রোহিঙ্গা এখানে থাকতে পারবে না। আর কোন ছাত্রও এখানে লেখাপড়া করে সরকারি সনদ নিতে পারবে না। এদিকে দারুল আমান একাডেমীর পরিচালনা কমিটির সভাপতি চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা ফরিদুল আলম বলেন,এটা সত্য হাসেম এবং নাছির সহ কিছু মানুষ তারা পুরাতন বার্মাইয়া। তবে এখানে এসেছে অনেক বছর আগে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে সনদও সংগ্রহ করেছে। মূলত প্রতিষ্টানে কিছু টাকা এনেদিতে পারে সে জন্য তাদের রাখা হয়েছে। এদিকে কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি নুরুল আজিম সওদাগর ও মনজুল আলম জানান, রোহিঙ্গাদের প্রতিষ্টিত করার অন্যতম প্রতিষ্টান দারুল আমান সহ জরিপ করে এধরনের সমস্ত প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা না দিলে আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াবে। ইতি মধ্যে অনেক রোহিঙ্গার ছেলেমেয়ে সরকারি বাহিনিতেও ঢুকে পড়েছে। এ ব্যপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদ বলেন,কিছু প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ শুনা যায়। এটা খুবই দুঃখ জনক। বিষয়টি তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একই রকম আরো নিউজ
© All rights reserved © 2021 matamuhuri.com
কারিগরি সহযোগিতায়: Infobytesbd.com
Jibon