শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মোঃ শফিক মিয়া ও জাহেদুল ইসলাম লিটু আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার আবদুল হান্নানের ত্যাগের কথা আজীবন স্বরণ করবে বদরখালীবাসী বদরখালীতে স্বরণ সভায়–আমিনুল ইসলাম নৌকার বিরোধীতা করবেন কপালে শনির দশা আছে: হারাতে হবে পদ চকরিয়ায় কুয়ার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু চট্টগ্রামে পথহারা’ কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩ চিড়িয়াখানায় বাঘিনী শুভ্রার ঘরে প্রথম সন্তান, বেড়ে উঠছে ‘মানুষের মমতায়’ বদরখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হান্নানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে এমপি কমলের সাক্ষাত খাগড়াছড়িতে নৈসর্গিক শিশুপার্ক নির্মাণ করা হবে : ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় দল থেকে ১১ বিদ্রোহী প্রার্থীকে সাময়িক বহিস্কার করছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,৫৪০,১১০
সুস্থ
১,৪৯৭,০০৯
মৃত্যু
২৭,১৪৭
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

খাগড়াছড়িতে শোক র‌্যালি ও মানববন্ধন ২৫ বছরেও ৩৫ কাঠুরিয়া হত্যার বিচার পায়নি স্বজনরা

শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

৯ সেপ্টেম্বর পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস। ১৯৯৬ সালে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার পাকুয়াখালীর গহীন অরণ্যে শান্তিবাহিনীর হাতে ৩৫জন বাঙালি কাঠুরিয়া প্রাণ হারান। এর ২৫ বছর পার হলেও এ হত্যাকা-ের এখনো বিচার পায়নি নিহতদের স্বজনেরা। এই হত্যাকা-ের স্মরণে এখনো কেঁদে উঠে লংগদু উপজেলার মানুষ।

এই দিনটিকে শোকাবহ দিবস হিসেবে পালন করে আসছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদসহ বেশকিছু সংগঠন। তারা ৩৫ জন কাঠুরিয়ার বর্বরোচিত হত্যাকা- কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। তাই এই দিনে তারা ওই কাঠুরিয়াদের গণকবর জিয়ারত, প্রতিবাদ সভা, শোক র‌্যালি ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করে আসছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শহরের শাপ্লাচত্ত্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে ৩৫ জন নিরীহ বাঙ্গালী কাঠুরিয়া হত্যার প্রতিবাদে ও তাদের পরিবার গুলোকে পূর্ণবাসনের দাবিতে শোক র‌্যালী ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মজিদ’র সভাপতিত্বে ও ছাত্র নেতা শাহাদাৎ হোসেন কায়সের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পিসিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ও বাঘাইছড়ির সাবেক পৌর মেয়র আলমগীর কবির। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্র হচ্ছে, পাহাড়ে খুন, গুম, হত্যা করে রক্তের হলি খেলায় মেতেছে সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস, ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সন্তু লারমা ও প্রসিত খীসা। এসব সন্ত্রাসীদেরকে গণ জাগরণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা হবে।

পাবর্ত্য চট্টগ্রামের উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস’র সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনীর হাতে অসংখ্য বর্বরোচিত, নাড়কীয় ও পৈশাচিক হত্যাকান্ডে শিকার হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালীরা। অসংখ্য ঘটনার মধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর বৃহঃপতিবার পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি নৃশংসতম বর্বর গণহত্যা দিন, পাকুয়াখালী ট্রাজেডি দিবস।

পিসিএনপি’র জেলা সভাপতি ইঞ্জিঃ আব্দুল মজিদ বলেন, ১৯৯৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পিসিজেএসএস এর সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী কর্তৃক রাঙামাটি জেলার পাকুয়াখালীতে নিরীহ এবং নিরস্ত্র বাঙালী কাঠুরিয়াদের ওপর নির্মম নির্যাতনের পর হত্যাকান্ড চালিয়ে তাদের বীভৎস মানসিকতার এক জঘন্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে এই দিনটি একটি নৃশংসতম বর্বর গণহত্যা দিন। এই দিনে ৩৫ জন নিরীহ বাঙালী কাঠুরিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল শান্তি বাহিনী। তাদের ক্ষত-বিক্ষত, বিকৃত লাশের নির্মম দৃশ্য দেখে সেদিন শোকে ভারী হয়ে ওঠেছিল পরিবেশ। হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে, দা-দিয়ে কুপিয়ে এবং বন্দুকের বেয়নেট ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নানাভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করেছিল সেদিন অসহায় ওই মানুষগুলোকে। প্রতিটি লাশকেই বিকৃত করে সেদিন চরম অমানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শান্তিবাহিনী।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পিসিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ন-সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি এস. এম. মাসুম রানা, তাহেরুল ইসলাম সোহাগ, সহ-সাধারণ সম্পাদক জালাল ও জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন।

পিসিএনপি’র নেতৃবৃন্দদের দাবি, মানবাধিকার এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে পাবর্ত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই পাকুয়াখালী গণহত্যাসহ পাহাড়ে সকল বাঙালী গণহত্যাকান্ডের তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা প্রয়োজন। অন্যথায় পাবর্ত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা কোনোদিনই সফল হবে না। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ও সম্প্রীতি রক্ষায় সশস্ত্র অবৈধ অস্ত্রধারী ও দেশদ্রোহী সন্ত্রাসী সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফকে নিষিদ্ধ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যার দায়ে সন্তু লারমা ও প্রসীত খীসাসহ তাদের সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তৎকালীন লংগদুর ৩৫ জন কাঠুরিয়া হত্যাকা-ের ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং এই কমিটি ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। পুনর্বাসন করা হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে। তাদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে কোন দায়িত্ব নেয়া হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। তারা আজ শিক্ষা-দীক্ষা-হীনভাবে অতি কষ্টের সাথে মানবেতর দিন যাপন করছে।

পিসিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা আরো বলেন, ১৯৯৭ সালে শান্তিবাহিনী সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে অস্ত্র জমা দিলেও তারা আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। কারণ পাহাড়ে অস্ত্রবাজী এবং চাঁদাবাজি রয়ে গেছে আগের মতোই। পাহাড়ে সংগঠিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- দেখে বুঝা যায় ধীরে ধীরে তারা অস্ত্রের মজুদ বাড়িয়ে আরো শক্তিশালী হচ্ছে। তাই পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পাকুয়াখালী গণহত্যাসহ সকল হত্যাকা-ের তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর দাবী জানান। অন্যথায় পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা কোনদিনই সফল হবে না।

উল্ল্যেখ, লংগদুতে ৩৫ জন কাঠুরিয়া হত্যাকা-সহ পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত সকল হত্যাকা-ের সুষ্ঠু বিচারের আশায় বুক বেধে আছে পাহাড়ে স্বজনহারা লোকজন। তারা এখনো আশা করছে একদিন এইসব খুনিদের সুষ্ঠু বিচার হবে এবং সরকারের দেয়া পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একই রকম আরো নিউজ
© All rights reserved © 2021 matamuhuri.com
কারিগরি সহযোগিতায়: Infobytesbd.com
Jibon