শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৮ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,৫৬৭,১৩৯
সুস্থ
১,৫৩০,৬৪৭
মৃত্যু
২৭,৮০৫
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

টিকে থাকার লড়াইয়ে হকার এবং মুজিববর্ষ

মাতামুহুরী ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ মে, ২০২১

“তাজা খবর” ।”আজকের তাজা খবর”। পত্রিকার হকারদের নিত্যদিনের আওয়াজ । সভ্যতার  এই যুগে চায়ের টেবিলে একটি পত্রিকাই পারে পৃথিবীর সব ধরণের খবর জানাতে। আর সেই পৃথিবী দেখার আলোক বর্তিকা কাগজে করে নিয়ে আসে একজন  হকার। যেন রহস্যঘেরা একজন মানুষ। তিনি পত্রিকার হকার । সকালে পত্রিকাটি না পেলে যেন চায়ের স্বাদে পুর্নতা আসে না। এক কাগজে সব খবর । দেশ, বিদেশ, রাজনীতি, অর্থনীতি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জনমত, স্বাস্থ্য, বিনোদন, কলাম, আইন আদালত, খেলাধুলা ইত্যাদি ।
সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে গণমাধ্যমের এই বাহনটি মানুষের মধ্যে দিনদিন জনপ্রিয় এবং গ্রহণ যোগ্যতা বৃদ্ধি পায় । শুধু নগর কিংবা শহর নয় গ্রামে ও সংবাদ পাঠকের সংখ্যা অনেক। যতক্ষণ হকার পত্রিকা নিয়ে আসে না মানুষ অধির আগ্রহ নিয়ে বসে থাকে। হকার সকালের পত্রিকা দুপুর কিংবা রাতে নিয়ে আসলে ও পত্রিকাটির গুরুত্ব কমে যায় না। কারণ সংবাদপত্র হলো সমাজের আয়না । আবার জ্ঞানের ভাণ্ডার ও বলা যায় । কারণ বিশ্বের রাজনীতি অর্থনীতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দর্শন বিনিময়ের সেতুর কাজ করে সংবাদপত্র । পুঁথিগত বিদ্যা শেষ কথা নয়। বিশ্বের কোণায় কোণায় হালনাগাদ তথ্য উপাথ্য গুলো সংবাদপত্র সামনে নিয়ে আসে। তাই সভ্যতার এবং রুচিশীল মানসিকতার সমাজ গঠনে সংবাদপত্রের অবদানের কথা এড়িয়ে যাবার কোন সুযোগ নাই ।
পত্রিকা যারা ফেরি করে আপাতদৃষ্টিতে কাজটি সহজ বলে মনে হলেও কিন্তু আসলে তা নয়। সাত সকালে কাক ডাকা ভোরে উঠে পত্রিকা সংগ্রহ করতে হয়। ঝড়, বৃষ্টি, শীতের সাথে লড়াই করে পত্রিকা নিয়ে গ্রাহকদের কাছে হাজির হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের হাতে পত্রিকা পৌঁছানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে হকার । অনেক হকার পায়ে হেঁটে কিছু হকার সাইকেল নিয়ে গ্রাহকদের পত্রিকা পৌঁছায়। নিরন্তর চেষ্টা চালায় সাত সকালে পত্রিকা তুলে দেবার । তারপর বিভিন্ন অফিস, আদালত পাড়া, স্কুল, কলেজ, বাসস্ট্যান্ড, শপিং মল অর্থ্যাৎ যেখানে লোক সমাগম সেখানেই ছুটে যায় পত্রিকা ফেরি করতে । চলন্ত গাড়িতে পত্রিকা বিক্রি করতে গিয়ে অনেক ঝুঁকি নিতে হয়। তবুও আপ্রাণ চেষ্টা করে তাজা খবর মানুষের কাছে নিয়ে যেতে । বিলুপ্ত প্রায় ডাক হকাররা জীবন বাজি রেখে নিজের দায়িত্ব বোধ থেকে পাহাড়, নদী, গাঁয়ের  মেঠোপথ পেরিয়ে মানুষের খবর পৌঁছে দিত। কারণ সে জানতো তার পিটের পিছনে সরকারি রংয়ের থলের মধ্যে আছে মানুষের হাসি, কান্না, বেদনা, বিরহ গাথা চিঠি । যার জন্য বসে আছে  আগ্রহ ভরে সে চিঠির বুভুক্ষু মানুষ । আপন জনের ছোঁয়া মিশ্রিত কাগজের আশায় নির্ঘুম রাত কাটায়। কখন সুর্যের রক্তিম আলো এসে সকালের জানান দেবে আর ডাক পিওন এসে বলবে”চিঠি আছে চিঠি ।”তাই চলার পথে কোন ভয় রাখে না । ভয়ে তড়স্থ থাকে পৌঁছানোর আগে বেলা উঠে যাবে বলে। কবি সুকান্তের ভাষায়
“রাত নির্জন পথে কত ভয় তবুও রাণার ছোটে
দস্যুর ভয়, তার চেয়ে ভয়, যখন সুর্য উঠে ।”
ডাক হকাররা মতো পত্রিকার হকার ও নিজের দায়িত্ব বোধ থেকে পত্রিকা নিয়ে ছোঁটে। সে জানে তার হাতে কিংবা সাইকেলের পিছনে আজকের তাজা খবর । রাজনৈতিক উত্থান পতন, বিপ্লব, বিদ্রোহ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নি, খরা, অর্থনীতির খবর, লেখাপড়া, বিনোদন পারিপাশ্বির্ক সবকিছু । দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ খবর পত্রিকায় ছাপানো হলে ব্যাপক ছোটাছুটির মাধ্যমে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে । তাই হকার শুধু পত্রিকা বিক্রেতা হিসেবে নয় পত্রিকা বহুল প্রচার প্রসারে মার্কেটিং এর কাজ ও করে ।
প্রত্যেক পেশা সন্মানের । পত্রিকা হকারদের অনেক সময় অপমান অবহেলার স্বীকার হতে হয়। ভদ্রতা, ভাল ব্যবহার, রুচিশীল মানুষের পরিচয় বহন করে । তাই সকলকে অসৌজন্য আচরণ থেকে বিরত থাকার মানষিকতা তৈরী করা বান্চনীয় । এই পেশায় ও অনেক বিখ্যাত মানুষের উপস্থিতি ইতিহাসে দেখতে পাওয়া যায়। টমাস আলভা এডিসন একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক । ইলেকট্রিক লাইট, টেলিফোন, গ্রামোফোন এবং সিনেমা হলে যে ছবি দেখি সব যান্ত্রিক সভ্যতার সূচনা করেছিলেন বৈজ্ঞানিক এডিসন। জীবন যাত্রা, অসচ্ছল পরিবারের দৈন্যতা দুর করতে এবং ল্যাবরেটরির সরঞ্জাম কিনার জন্য এক সময় স্টেশনে স্টেশনে, রাস্তায় রাস্তায়  পত্রিকা ফেরি করতো। এ পি জে আবুল কালাম আজাদ। ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট । বৈজ্ঞানিক, লেখক এবং দার্শনিক । দারিদ্র্যের কারণে সাইকেল নিয়ে প্রত্যান্ত গ্রামে, শহরে  পত্রিকা ফেরি করতো। । ফিনল্যান্ডের সাবেক নারী  প্রেসিডেন্ট, যিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রেসিডেন্ট নাম  সানা মারিন। অর্থ কষ্ট থেকে স্কুল জীবনে পত্রিকা বিক্রি করে লেখাপড়ার খরচ যোগাতেন। ইতিহাসের পাতা ওল্টানো  হলে এরকম অনেক মানুষের ইতিহাস উঠে আসবে এবং বর্তমানে ও এরকম উদাহরণ অনেক ।
গত কয়েকদিন আগে ঢাকায় মেট্রোরেলের মহড়া হল। একদম তাজা খবর। স্বাধীনতার সুবর্ণ রজতজয়ন্তী এবং মুজিববর্যের অন্যতম তাজা খবর । নতুন খবর। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীদের হটিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। ভৌগলিক সীমারেখার ভিতরে কোন কিছু সুরক্ষিত ছিল না। চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ । জাতির পিতা বিধ্বস্ত দেশ পূনর্গঠনে নানামুখী পরিকল্পনা হাতে নেয়। তখন পরাজিত গোষ্ঠীর অপপ্রচার জাতিকে বিব্রত করার স্বক্রিয় হয়। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশকে নেতিবাচক মন্তব্য “তলা বিহীন” ঝুড়ি বলে তকমা লাগিয়ে রাখে তৎকালিন মার্কিন কুটনৈতিক হেনরি কিসিঞ্জার । কিন্তু আজ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের বাংলাদেশের অর্জন অনেক । বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম লেখায় । আকাশে লাল সবুজের পতাকা নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেটেলাইট। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। নানা বিধ ষড়যন্ত্রকারীদের মুখে চপেটাঘাত করে নিজস্ব অর্থায়নে মেগাপ্রকল্প পদ্মা সেতু আজ বাস্তবতা। নানা মুখী প্রকল্প আজ শেষ পর্যায়ে এবং চলমান । কিন্তু কাজের নিরিখে প্রচারণা কম। রাজধানী কেন্দ্রীক উন্নয়ন সমূহ প্রচার হলেও জেলা উপজেলা পর্যায়ের কাজ গুলো প্রচারের মুখ দেখে না।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের খবরাখবর ফলাও করে ছাপানো হতো পত্রিকায় । যে খবর  মুক্তিকামী বাঙালিদের উজ্জীবিত করতো। আর অকুতোভয় হকার ঝুঁকি নিয়ে পত্রিকা গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিতো। তাই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান কোন অংশে কম নয়। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পত্রিকার সম্পাদক, সাংবাদিক সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সুন্দর সম্পর্ক রাখতেন। কারণ আন্দোলন সংগ্রামে সংবাদপত্রের ভূমিকা অনেক । দলের নীতিমালা কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছানোর শক্তিশালী গণমাধ্যম সংবাদপত্র। উপনিবেশীক শাসনের বিদায়ের পর বঙ্গবন্ধু ও এক সময় পত্রিকায় জড়িত ছিলেন । অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তিনি লিখেন “মানিক ভাই তখন কলকাতায় ইত্তেহাদ কাগজের সেক্রেটারি ছিলেন । আমাদের টাকা পয়সার খুবই প্রয়োজন । কে দিবে ? বাড়ি থেকে নিজেদের লেখাপড়ার খরচটা কোনমতে আনতে পারি, কিন্তু রাজনীতি করার টাকা কোথায় পাওয়া যাবে ? আমার একটু স্বচ্ছল অবস্থা ছিল, কারণ আমি ইত্তেহাদ কাগজের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধি ছিলাম । মাসে প্রায় তিন শত টাকা পেতাম । আমার কাজ ছিল এজেন্সি গুলোর কাছ থেকে টাকা পয়সা আদায় করা। আর ইত্তেহাদ কাগজ যাতে চলে এবং নতুন এজেন্ট বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ করা সেটা দেখা। “(পৃ88)
দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসা বাণিজ্য মৃতপ্রায় ।সাথে পত্রিকা ফেরি আগের মত চলে না। নিয়মিত পত্রিকার গ্রাহকদের অনেকেই পত্রিকা নিতে আগ্রহী নয়। বাসা বাড়ির গ্রাহকরা লকডাউনের সময় দেখা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে । আবার তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে অনেক মানুষ মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। মোবাইলের মাধ্যমে খবর পড়ে নেওয়ায় পাঠক পত্রিকা মুখী হচ্ছে না। ফলে সংবাদপত্রের সাথে জড়িত এজেন্ট এবং হকারদের নাজুক অবস্থা । অর্থকষ্ট নিয়ে নানামুখী সংসারের চাপে আছে স্বল্প আয়ের এই মানুষ গুলো । ছেলে মেয়ে সংসার নিয়ে তারা অনেক কষ্টে আছে। মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানাবিধ সহযোগিতার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। দরিদ্র ভূমিহীন বিত্তহীন অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। তেমনি মানুষের খবর বয়ে বেড়ানো স্বল্প আয়ের হকারদের সহযোগিতার আওতায় আনা খুবই জরুরী। মাঝে মধ্যে সামান্য সহযোগিতা পেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। প্রতিদিন সংবাদপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করা হকারদের তালিকা করে করোনাকালীন সময়ে তথ্য মন্ত্রনালয় বা জেলা প্রশাসন চাইলে সহযোগিতার হাত বাড়াতে পারেন। সরকার সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। দেশ বিদেশের খবর ফেরী করা হকারদের খবর কেউ রাখে না। তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত । তথ্য উপাথ্যের আলো নিয়ে পিদিমের মত ঘুরে বেড়ানো মানুষদের জীবনে কোন আলোর রশ্মি নাই। যেন প্রদীপের নিচে অন্ধকার । হকারদের হাতের পত্রিকা দিয়ে আমরা পৃথিবী দেখি কিন্তু কবির ভাষায়
“দেখা হয় নাই  চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া।” তেমনি আমাদের চোখের সামনের মানুষ গুলোর অভাব অভিযোগ সুখ দুঃখ চোখে পড়ে না। দেখে ও দেখি না।
অনেক হকারদের নিজের কোন বাড়ি নাই । ভাড়া বাসার ভাড়া টানতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। তাই যাচাই বাচাই করে আশ্রয়হীন হকার ভাইদের কিছু ঘর দেয়া যেতে পারে । মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর উদযাপনের সাথে তথ্য মন্ত্রনালয় চাইলে হকার ভাইদের সম্পৃক্ত করতে পারে । যা উদাহরণ হয়ে থাকবে । যেমন (ক) হেঁটে যেতে হয় বলে অনেক সময় গ্রাহকের কাছে টিক সময়ে পত্রিকা  পৌঁছাতে দেরি  হয়। তাই উপহার হিসেবে সাইকেলের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। (খ) তাদের পরিধানের কাপড়ের উপরে মুজিববর্ষের লোগো সম্বলিত একটি হাতকাটা কোট। যার পিছনে লেখা থাকবে “খবরের কাগজ ” । যাতে চলার পথে জনগণ বুঝতে পারে উনি পত্রিকা বিক্রেতা । আজকাল গ্রামের মানুষের প্রতিদিন শহর উপশহরে আসা যাওয়া । সবাই স্বল্প সময় হাতে নিয়ে জরুরি কাজ নিয়ে আসে । তাই ইচ্ছে থাকার পরও পত্রিকার দোকানে গিয়ে পত্রিকা নেয়ার সুযোগ থাকে না। তখন রাস্তা কিংবা স্টেশনে হকার দেখতে পেলে পছন্দ সই পত্রিকা সংগ্রহ করবে । (গ) আর একটি ক্যাপ বা টুপি। (ঘ) ছাতা।
তথ্য মন্ত্রনালয় বা মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় চাইলে হকারদের তালিকা করে সহযোগিতার আওতায় নিয়ে আসা হলে উপকৃত হবে । পেশার প্রতি নিজের দায়িত্ব বেড়ে যাবে। পত্রিকা বিক্রি প্রসার হবে ।মুজিব বর্ষের  সংবাদ বহুল প্রচার পাবে ।
35 বছরের  উপর পত্রিকা ফেরির পেশায় জড়িত মোস্তাফা কামাল ।কক্সবাজার হকার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ।তিনি বলেন এই পেশার প্রতি এখন তাদের  অনীহা চলে আসছে।।অনিশ্চিত ভবিষ্যত তাদের ।মায়া থেকে পেশা ছাড়তে পারছে না।তিনি বলেন মহামারীর লকডাউনের কারণে অনেক হকার বাড়িতে চলে গেছে।প্রযুক্তির উন্নয়নে মানুষ ইন্টারনেটে পত্রিকা পড়ে নিচ্ছে।আয় রোজগার কমে যাবার কারণে অনেক হকার ফিরে আসতে চাইছে না।তাই তালিকা ভুক্ত করে হকারদের সহায়তার আবেদন জানান সজ্জন হকার মোস্তফা কামাল ।
“বিজ্ঞান আর্শীবাদ নয়, অভিশাপ “দীর্ঘদিনের একটি  পুরনো বিতর্ক । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলো বিকশিত করতে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্কুল জীবনে  বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উক্ত বক্তব্যের পক্ষে বলে আমাদের দল জয়লাভ করে। অপর দল হেরে যায়। কিন্তু অনুষ্ঠানের সমাপ্তি বক্তব্যে সভাপতি শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষকের একটি কথা এখনও মনে পড়ে। তিনি বলেন যুক্তি তর্কের উপস্থাপনায় দলের জয় পরাজয় নির্ধারিত হলে ও উভয় দলের জন্য আমার হাততালি। কারণ আমার বিবেক মতে কোন দলেরই হার কিংবা জয় নয়।  প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের উপর নির্ভর করবে আর্শীবাদ এবং অভিশাপ।
সভ্যতার এই যুগে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে চিন্তাশীল সমাজ আতঙ্কিত । বিজ্ঞানের নতুন সংযোজন মোবাইল প্রযুক্তির বিস্ময় । আবার অপব্যবহার আশংকার। যাহা ইতিমধ্যে উঠতি প্রজন্মের অভিভাবক এবং সমাজ বিজ্ঞানীদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগছে। যুবকদের  নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ মোবাইলের অপব্যবহার। পাঠক সমাজ পত্রিকা বিমুখ। দীর্ঘ সময়ে মোবাইলে মগ্ন থাকা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। তাই পত্রিকার পাঠক এবং পড়ুয়াদের সংবাদ পত্রে ফিরিয়ে আনতে তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিবিধ প্রচারণা চালানো দরকার। বরিশালের একজন সাবেক অধ্যাপক ইসহাক শরিফ । চট্টগ্রাম বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর। তিনি কলেজের চাকরি থেকে অবসরের পর বর্তমানে রাস্তায় রাস্তায় পত্রিকা ফেরী করেন। সমাজের প্রতিদায়বদ্ধতা থেকে পত্রিকা বিমুখ পাঠকদের পত্রিকা হাতে তুলে দেওয়ার জন্য । সাদা মনের মানুষ অধ্যাপক ইসহাক শরিফের মতে-“আমাদের সমাজ ও চিন্তা কে সুস্থির, সাবলীল ও ইতিবাচক করতে হলে জ্ঞান ও তথ্যের বিকল্প নাই “। তাই মাধ্যমকে গতিশীল করার জন্য রাষ্ট্র  কে ও এগিয়ে আসতে হবে। জনগণকে সচেতন করার জন্য প্রচারণার দায়িত্ব নিতে হবে । সংবাদপত্র নিয়ে মাঠে থাকা যোদ্ধা হকারদের প্রতি সার্বিক  সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া দরকার বলে মনে করেন বিজ্ঞ সমাজ ।

লেখক–বদরুল ইসলাম বাদল
কলামিষ্ট এবং নব্বই দশকের সাবেক ছাত্রনেতা
badrulislam2027@gmail

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একই রকম আরো নিউজ
© All rights reserved © 2021 matamuhuri.com
কারিগরি সহযোগিতায়: Infobytesbd.com
Jibon