শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,৫৬৭,১৩৯
সুস্থ
১,৫৩০,৬৪৭
মৃত্যু
২৭,৮০৫
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট

জীবন এবং জীবীকার মুখোমুখি লকডাউন

মাতামুহুরী ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
জীবন এবং জীবীকার মুখোমুখি লকডাউন, রাষ্ট্রকে দুটিকে একসঙ্গে দেখতে হবে সীমিত লকডাউনের পরিবর্তে আবার আসছে ‘কঠোর লকডাউন’। অবশ্য ‘সীমিত লকডাউন’ আর ‘কঠোর লকডাউন ‘ শব্দ দুটির মধ্যে বিস্তর কোন পার্থক্য বা সীমারেখা নেই । এই দুটি শব্দ বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ভয়ংকর পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা অকপটে স্মরণ করিয়ে দেয় । কি দুঃসহ, নির্মমভাবে সে সব দিন আমাদের শ্রেণীহীন – ভূমিহীন মানুষগুলো কাটিয়ে এসেছে, এখনো দুচোখ বন্ধ করে তা ভাবতে পারি না । একদিকে করোনার মুহুর্মুহু আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল পুরো দেশ, অপরদিকে বিধি-নিষেধের মারপেঁচে চাকরি কিংবা কাজ করতে না পেরে ধুঁকে ধুঁকে মরছিল অসহায় মানুষগুলো। করোনার এই সংকটকালে একদিকে মানুষের অসহায় আর্তনাদ;
অপরদিকে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের হাতে বন্দি ছিল আমাদের সহজলভ্য মৌলিক অধিকার । সে সব দুঃসহ জীবনের ছাপ আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি । আমরা জীবনের প্রকৃত সত্য বুঝে উঠার আগেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছি বারবার। আমরা সকলে কামনা করেছিলাম স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসে একটি শ্রেণী শোষণহীন, সাম্য -মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে পারবো । কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও এটা সত্য যে, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসে ও আমরা একটি মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি । আমাদের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষগুলো সভ্যতার দারুণ ক্রমবিকাশের নানাবিধ সত্ত্বেও এখনো নায্য মূল্য পাই না । উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষী সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার যেন শেষ নেই । মাঝে মধ্যে পত্র-পত্রিকার সুবাধে জানতে পারি মানুষগুলো লবণের নায্য মূল্য পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি দিচ্ছে । সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ তাঁদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবার আশা- প্রত্যাশা ব্যক্ত করলেও এখনো তাঁদের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি । যেন দেখার কেউ নেই । বর্তমান সরকার দেশের সার্বিক অবকাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাদার অফ হিউম্যানিটি খ্যাত সফল রাষ্ট্রনায়ক আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমগ্র দেশের জন্য ভাবেন, তাঁর চোখে আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখি একটি আধুনিক সমৃদ্ধির বাংলাদেশ । কিন্তু সে সমৃদ্ধির বাংলদেশের পথে যথাযথভাবে আমাদের এগুতে হলে কতগুলো মৌলিক জায়গায় আমাদের স্পষ্টত পরিবর্তন এনে দিতে হবে ; অন্যথায় দেশের গ্রামীণ জনপদের মানুষ দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ভিন্নচোখে দেখা আরম্ভ করবে। দেশের বেশকয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প ইতোমধ্যে দারুণ বেগে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আজকে ‘পদ্মা সেতু’র মতোন হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এছাড়া মেট্টোরেলের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আরো বেশকিছু মেঘা প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হরহামেশা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আসল ব্যপার হলো এসব মেঘা উন্নয়ন এবং অগ্রগতি দেশের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষগুলো বুঝে না। তাঁরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে, প্রতিদিন পেটে তিন বেলা খাবার জুটলে, সুস্থ দেহ এবং মন থাকলে আমাদের পৃথিবী, আমাদের দেশ ভারি সুন্দর এবং বসবাসযোগ্য হয়ে উঠছে। এটা খুব স্বাভাবিক পেটে ভাত না থাকলে উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি দিয়ে অসহায় মানুষগুলোর ভাগ্যের কোন পরিবর্তন আসবে না । একটা সভ্য দেশে পেটের ভাত জোগাড় করার জন্য এখনো আন্দোলন হয়, মিছিল হয়, সমাবেশ হয় এটা কখনো কল্পনা করা যায় না । কিন্তু আমরা করোনার সংকটকালে এসে দেখেছি মানুষ প্রশাসনের জরিমানা-বিধি নিষেধ তোয়াক্কা করেনি ; করোনার অস্বাভাবিক শনাক্তের হার কমানোর জন্য উপরমহল পুরো দেশে বিভিন্ন সময় নানাবিধ বিধি-নিষেধ প্রয়োগ করেছে । কিন্তু ‘লকডাউন’ কতটুকু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে তার যদি আমরা চুলছাঁটা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো লকডাউন পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করতে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছে। লকডাউন মানুষ মেনে নিতে পারেনি ; দিনমজুর মানুষগুলো ঘরে বউ-বাচ্চাদের উপবাসের মুখ দেখে উপান্তরহীন হয়ে বেরিয়ে পড়েছে কাজের সন্ধানে, দুটো ডাল-ভাতের প্রাসঙ্গিক তাগিদে। এখান থেকে আমাদের বুঝতে হবে, লকডাউন পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রথমত প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনমত খাবার রাষ্ট্র থেকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় লকডাউন কখনো জাতির জন্য সুখবর বয়ে আনতে পারবে না। অর্থের অভাবে খেতে না পেলে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বে, স্বাস্থ্যঝুঁকি মানবে না সেটা আমরা অতীতে দেখে এসেছি। দ্বিতীয়ত, সাধারণ মেহনতি মানুষগুলো লকডাউনের মারপেঁচে পড়ে দুবেলা যদি ঠিকমতোন খেতে না পায় তাহলে বর্তমান সরকার যেভাবে উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধিকে দিনকে দিন ত্বরান্বিত করছে, তা তাঁদের কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়বে । কাজেই, নাগরিকের জীবন রক্ষার স্বার্থে একদিকে যেমনভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, অপরদিকে ঠিক একইভাবে লকডাউনের সময় অসহায়, দিনমজুর প্রতিটি মানুষের ঘরে-ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। না হলে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্নে নতুনভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে ।
লেখক: তানভীর মোর্শেদ তামীম, তরুণ লেখক এবং কলামিস্ট ।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

একই রকম আরো নিউজ
© All rights reserved © 2021 matamuhuri.com
কারিগরি সহযোগিতায়: Infobytesbd.com
Jibon